জাগো লাইভ২৪.কম | আপডেট: 7:37 PM, June 30, 2022
Home» » মুদ্রানীতি ঘোষণা মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাই হবে চ্যালেঞ্জ
মুদ্রানীতি ঘোষণা মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাই হবে চ্যালেঞ্জ

মুদ্রানীতি ঘোষণা মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখাই হবে চ্যালেঞ্জ
ঢাকা: নতুন অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জ হবে টাকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মান অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। বৃহস্পতিবার ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণার সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এসব তথ্য জানান।
মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়। বিদায় গভর্নর বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমণ সমর্থন অব্যাহত রাখা জন্য সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে যা কিছুটা সংকোচন মূলক।
ফজলে কবির বলেন, করোনার কারণে বর্তমান বিশ্ব এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। সরকার করোনা মোকাবিলা করতে ২০২০ সালের মার্চ থেকে গত এপ্রিল পর্যন্ত ২ লাখ ৪২৯ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকার ১০টি প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন উদ্যোগে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কাঙ্খিত স্তরে পৌঁছালেও মূল্যস্ফীতিকে লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমিত রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে (২০২১-২২) সরকারিখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং বেসরকারিখাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১ শতাংশ। বৈদেশিক ঋণ বেশি পাওয়ায় ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেকটা কম হয়েছে। তাই ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারি-বেসরকারি ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ ও ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।
গভর্নর বলেন, বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ালেও ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের ফলে এক অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বে প্রবৃদ্ধি কমেছে। বাংলাদেশ করোনার প্রভাব কাটিয়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শক্তিশালী হলেও সরবরাহ চেইনে সমস্যা থাকায় বিশ্ব চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বিশাল চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।
বিদায়ী গভর্নর বলেন, আমদানির তুলনায় রপ্তানি অনেক কম হয়েছে। অন্যদিকে রেমিটেন্সও কমেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের ১১ মাসে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ, ৩৯ দশমিক ১ ও ঋনাত্মক ১৬ শতাংশ। যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ১৭ দশমিক ৩০ ও ৩৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, ঘাটতির পরিমাণ বেশি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে টাকার বিনিময় হারের উপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ২০২১ সালের জুনে ৪৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৭ জুন রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। আর টাকার বিনিময় হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ থেকে ৯২ দশমিক ৯৫ শতাংশ হয়েছে।
তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জ হবে টাকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মান অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখা।






